1. muldhara71@gmail.com : muldhara.net : muldhara.net muldhara.net
  2. editor@muldhara.net : muldhara.net : Muldhara Daily
০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ ইং

১৬ ডিসেম্বর: বাঙালির গর্ব, বাঙালির অহংকার

প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম
  • হালনাগাদ: বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

আজ ১৬ই ডিসেম্বর। মহান ‘বিজয়’ দিবস। ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশের বিজয়ের দিন। অপ্রতিরোধ্য বাঙালির মুক্তির দিন। বাঙালি জাতির জীবনে খুবই আনন্দের-মহানন্দের দিন এটি। এই দিনটিকে নিজের করে পাওয়ার জন্য এ জাতি হারিয়েছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ত্রিশ লক্ষ মা-বোনের রক্ত ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয় বাঙালির গর্ব, বাঙালির অহংকার।

১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্মম পরাজয় এদেশের গণজীবনে এক গ্লানিকর  অধ্যায়ের সূচনা করে। জন্ম হয় একজন মীরজাফরের। সেই থেকে কত সংগ্রাম, কত আন্দোলন, কত রক্ত ঝরাতে হয়েছে এ জাতিকে তার কোন ইয়ত্তা নেই। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পিপাশা থেকে এ জাতিকে কখনো বিরত রাখা যায়নি। ‘স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন’ বাস্তবায়নে কোন অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার প্রমাণ ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র এর গণ আন্দোলন, ৭০’র নির্বাচন। সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও পাকিস্তানীদের বিশ্বাসঘাতকতা, ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা দিনে দিনে দেশকে, দেশের মানুষকে উত্তাল করে তোলে।

বঙ্গবন্ধু পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানী হায়েনাদের নীলনকশায় বাঙালির মুক্তির কপাট  চিরতরে রুদ্ধ হতে চলেছে। শাসকগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার-বঞ্চনায় একটি ‘মুক্তির’ যুদ্ধ বাঙালীর জন্য অনিবার্য হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, ইতিহাসের মহানায়ক জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেন তার মধ্য দিয়ে একটি নিরস্ত্র জাতি ‘মুক্তিকামী’ হয়ে ওঠে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসের দস্তাবেজে লেখা হয় একটি ‘৯ মাসের ১৯৭১’। বঙ্গবন্ধু জানতেন- যেকোন মুহূর্তে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী হয়ে যেতে পারেন। তারপর কিভাবে দেশ চলবে? দেশের মানুষের করনীয় কি হবে? যুদ্ধকালে রণনীতি-রণকৌশল কি হবে? এর সবই তিনি তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে জাতিকে জানান দেন। সর্বেশষ কথা বলেন- ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।’

বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর কথা রাখে, হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, পাকিস্তনের দোসর দালাল-রাজাকার-আলবদরদেরকে মোকাবিলা করে, সর্বপোরী স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাংলার আকাশে লাল সবুজের পতাকা মেলে ধরে। বাংলার মাটি স্বাধীন হয়। বাংলার বাতাস পরিশুদ্ধ হয়। স্বাধীন দেশের মুক্ত আকাশে নতুন সূর্য উদিত হয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। কাঁধে তুলে নেন দেশ গড়ার দায়িত্ব। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’। দিন-রাত ছুটে চলেন দেশ দিগন্তের এপার-ওপার। বিশ্ব দরবারে যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশের চিত্র তুলে ধরেন, নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালীর উপর অস্ত্রধারীদের নির্বিচার গোলা-বারুদ বর্ষণের বিভীষীকা তুলে ধরেন। বিশ্ববাসী বীর বাঙালীর মুক্তির সংগ্রামকে উপলব্ধি করে, বাঙালীর স্বাধীনতাকে সন্মান জানিয়ে দু’হাত প্রসারিত করে। ধীরে ধীরে যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশ আপন রঙে সাজতে থাকে। বারুদের গন্ধ চাপা পড়তে থাকে ‘সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা’ বাংলার আপন ঘ্রাণে। স্বাধীন বাংলার আকাশ-বাতাস ধ্বনিত হয় রক্তিম পতাকার পত পত আওয়াজে।



ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায় ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়নি কোন কালেই-  যুগে যুগে মুক্তিকামী জনতার মঞ্চে ‘মুক্তিবার্তা’ নিয়ে হাজির হয়েছে ‘আলোর দিশারী’। কালের নিয়মে হার না মানা বাঙালিও খুঁজে পায় আপন দিশারী। মীর জাফরেরা বঙ্গবন্ধুর সবকিছু শেষ করে দিলেও তাঁর ‘রক্তের ফোঁটা’  থেকে যায় দেশের বাইরে- সংগ্রামী বাঙালি বাবার আদর্শ মহীয়সী বাঙালি কন্যা শেখ হাসিনা।



বাঙালীর ‘মন্দভাগ্য’। আবার সেই মীরজাফর। এবারের মীরজাফর- খন্দকার মোশতাক আহমেদ। কালের ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটায় এই খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে কিছু বিপথগামী সামরিক অফিসার ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। পচাত্তরের পনেরই আগষ্ট তারা নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ও তার গোটা পরিবারকে এমনকি তাঁর শিশুপুত্র শেখ রাসেলকে।

শুরু হয় ইতিহাসের নতুনভাবে পথ চলা। শুরু হয় পশ্চাদপদতার ইতিহাস। শুরু হয় ‘ইতিহাস বিকৃতির’ ইতিহাস। শুরু হয় বাংলার স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে পুনর্বাসিত করার ইতিহাস। খুনিদের রক্ষা করার ইতিহাস। নতুন নতুন ‘কালাকানুন’ জারি করে অপকর্ম ঢাকার ইতিহাস। দীর্ঘদিন এদের অপশাসনে বাঙালির বাংলা ছারখার হয়ে যায় আবারো। বাঙালীর মেধা-মননে মরীচা ধরতে শুরু করে। সংগ্রামী বাঙালির ভাগ্যের চাকা উল্টো পথে ঘুরতে থাকে। গতিপথ আগলে দাঁড়ায় মূর্তিমান কালো ছায়া। থমকে দাঁড়ায় স্বাভাবিক জীবন। লাল সবুজের পতাকা সজীবতা হারাতে থাকে। শুর হয় স্বাধীন দেশে শৃঙ্খল জীবনযাপন।

ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায় ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়নি কোন কালেই-  যুগে যুগে মুক্তিকামী জনতার মঞ্চে ‘মুক্তিবার্তা’ নিয়ে হাজির হয়েছে ‘আলোর দিশারী’। কালের নিয়মে হার না মানা বাঙালিও খুঁজে পায় আপন দিশারী। মীর জাফরেরা বঙ্গবন্ধুর সবকিছু শেষ করে দিলেও তাঁর ‘রক্তের ফোঁটা’  থেকে যায় দেশের বাইরে- সংগ্রামী বাঙালি বাবার আদর্শ মহীয়সী বাঙালি কন্যা শেখ হাসিনা।

বহু আন্দোলন-সংগ্রামের পর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। দেশের হাল ধরেন। নুইয়ে পড়া পতাকা উচিয়ে ধরেন। আঁধার কেটে ভোরের সূর্য আলো ফেলতে শুরু করে বাংলার সীমানাজুড়ে। শুরু হয় ‘নব পথচলা’। ‘দেশ কারিগর’ কে ঘিরে রাখে কোটি বাঙালির স্বকীয় সত্তা। বাঙালির ভাগ্যাকাশে উদিত হয় ‘নবতারা’। জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার করে বঙ্গকন্যা বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন। অচিরেই দেশকে পৃথিবীর ইতিহাসে অবিশ্বাস্য-ইর্ষণীয় স্থানে মেলে ধরেন। বাংলার পতাকায় হাওয়া লাগতে শুরু করে। তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা থেকে বাঙালির বাংলা ‘সোনার বাংলা’ হয়ে ওঠে বিশ্ব মানচিত্রে।

বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। নতুন শতকের বিশ্বে ‘বাংলা ও বাঙালি’ আজ এক অনন্য নাম। উন্নয়নে পাকিস্তানকে টপকে যাওয়া বাংলাদেশ আজ চালকের আসনে- এ বার্তা গর্বের, এ সংবাদ গৌরবের। স্বাধীন বাংলাদেশ সম্মুখপানে এগিয়ে চলেছে অদম্য গতিতে। বাঙালির বাংলাদেশ আজ ‘বিশ্বের বিষ্ময়’।

আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। কোটি কোটি বাঙালির দলের আমিও একজন। সোনার বাংলার বায়ু-জলে আমার বেড়ে ওঠা। বাঙালি জাতির রুধিধারা আমার শরীরেও বহমান, বাঙালির ‘বীরত্বধারা’র আমিও একজন অংশীদার। বীর বাঙালির ইতিহাসগাথা যতবার পড়েছি ততবারই শিহরিত হয়েছি, পেয়েছি জীবনীশক্তি। মুক্তিকামী বাঙালির সংগ্রামগল্পকে পুঁজি করে পথ চলেছি। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত পতাকাতলে বত্রিশ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় সকল বাঙালি শিক্ষার্থীকে শুধু একটাই অনুরোধ জানাতে চাই। প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ মনযোগ দিয়ে শুনবে। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দু’টি সংগ্রহ করে পড়বে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রাখবে। ‘বাংলাভাষা, বাংলাদেশ, বাঙালিত্ব’-ই হোক সবার পথচলার প্রেরণা- সতত প্রত্যাশা।

বিজয়ের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লক্ষ বীর বাঙালির প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম, বাঙালিবীর বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা-ভালবাসা, বাঙালিকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি মঙ্গলকামনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আঠারো কোটি দুর্মর বাঙালিকে রক্তিম শুভেচ্ছা। জয় বাংলা।

লেখক: প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতি, আরবিটিএ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক, মূলধারা।

মূলধারায় সম্পৃক্ত হোন

সংশ্লিষ্ট আরো খবর...

মূলধারা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
themesbazarmuldhara84

লাল-সবুজের বাংলায় ‘মূলধারা’য় স্বাগতম

লাল-সবুজের বাংলায় ‘মূলধারা’য় আপনাকে স্বাগতম। মূলধারা- সবার কথা বলে। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। E-Mail: muldhara71@gmail.com

মূলধারা-সবার কথা বলে

লাল-সবুজের বাংলায় ‘মূলধারা’য় আপনাকে স্বাগতম। মূলধারা- সবার কথা বলে। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। E-Mail: muldhara71@gmail.com