1. muldhara71@gmail.com : muldhara.net : muldhara.net muldhara.net
  2. editor@muldhara.net : muldhara.net : Muldhara Daily
০৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১ ইং

‘তিনিই আমাদের বঙ্গবন্ধু’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • হালনাগাদ: শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০
সামছুন্নাহার বেগম

জাতির জনকের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলছিল। নিজ স্কুলের অনুষ্ঠান শেষে শহরের একটি স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে একটি শিশুর মুখে শুনলাম, ‘বঙ্গবন্ধু নাকি করোনা রোগে মারা গেছেন!’ মনে খুবই দুঃখ পেলাম। এ শিক্ষাই কি দিচ্ছি আমরা শিশুদেরকে!

লেখালেখিতে আমার তেমন হাত নেই। আমি একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিগত ২৪ বছর যাবৎ আমার বাড়ি থেকে ২৬ মাইল দূরে চরাঞ্চলের একটি স্কুল ‘চর উভূতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এ কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে আরও কিছু কথা আছে সেগুলো এখানে বলা অনাবশ্যক বোধ করছি।

যাহোক, নিজের ভিতর থেকে তাগিদ অনুভব করলাম বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অন্তত কিছু তথ্য শিশুদেরকে জানানোর। আমার এ লেখা কোনো মানসম্মত লেখা নয়; শিশুদের শেখার জন্য কিছু তথ্য মাত্র। নাম দিলাম-

‘তিনিই আমাদের বঙ্গবন্ধু’

স্নেহের সন্তানেরা, তোমরা কি জানো, আমাদের একজন নেতা ছিলেন? আমাদের একজন পিতা ছিলেন? আমাদের একজন বঙ্গবন্ধু ছিলেন; যিনি আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছেন, যিনি আমাদেরকে একটি পতাকা দিয়েছেন, যিনি আমাদেরকে একটি মানচিত্র দিয়েছেন, যিনি আমাদেরকে দিয়েছেন ‘একটি বাংলাদেশ।’ যিনি বলেছিলেন-

‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই।’

তার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। ডাক নাম ‘খোকা’। তিনি আমাদের জাতির জনক, তিনিই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০ সাল। বাড়ি ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। বাবা শেখ লুৎফর রহমান, মা সায়েরা বেগম।

বিবিসি বাংলা জরীপে- ‘বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।’

ইউনেস্কো ঘোষণা করেছে- ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ। এটি বিশ্ব সম্পদ।’

ফিদেল কাস্ত্রো’র ভাষায়- “তিনি হিমালয়।”

প্রয়াত প্রাবন্ধিক আহমদ ছফা তার প্রবন্ধে লিখেছেন-

“স্বাধীনতা ও শেখ মুজিবুর- এ দুটো যমজ শব্দ; একটা অপরটার পরিপূরক।”

বঙ্গবন্ধুর জীবনকাল ৫৫ বছর ৪ মাস ২৯ দিনের। শুধু দিনের হিসেবে ২০,২২৪ দিনের জীবন। তারমধ্যে ৪,৬৮২ দিন তিনি ছিলেন কারাগারে। অর্থাৎ ৫৫ বছরের জীবনের ১৪ বছরই তিনি ছিলেন কারাগারে! ১৯৩৮ সালে অর্থাৎ মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথম তিনি গ্রেফতার হন। সর্বমোট ১৮ বার তিনি জেলে গেছেন।

১৯৩৪ সালে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে বঙ্গবন্ধু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ৯ বছর পর তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা ও তিন পুত্রের জন্ম হয়।

কন্যাদের নাম: ১. শেখ হাসিনা ২. শেখ রেহানা

পুত্রদের নাম: ১. শেখ কামাল ২. শেখ জামাল ৩. শেখ রাসেল

বঙ্গবন্ধুর নিজের হাতে লেখা ২টি পান্ডুলিপি ছিল। তিনি জেলখানায় থাকাকালীন এগুলো লিখেছিলেন। পান্ডুলিপি দু’টি খুবই দুর্লভ ও মহামূল্যবান। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা সে দু’টি উদ্ধার করে বইয়ে রূপ দেন। বই দু’টির নাম-

১. অসমাপ্ত আত্মজীবনী

২. কারাগারের রোজনামচা

ফিরে আসি বঙ্গবন্ধুর ছাত্র জীবনে, যা শুরু হয়েছিলো ৭ বছর বয়স থেকে। ১৯২৭ সালে তিনি গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। ৯ বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারী স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৪ সালে বঙ্গবন্ধু বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে তাঁর একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয়। ফলে তাঁর লেখাপড়ায় সাময়িক বিরতি ঘটে। ঐ সময় ৪ বছর তাঁর লেখাপড়া বন্ধ থাকে। ৪ বছর পর পুনরায় তিনি স্কুলে ভর্তি হন।

এ লেখাটি শুরু করেছিলাম প্রাক-প্রাথমিকের একটি শিশুর মুখ থেকে শোনা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ধারণা নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে লুৎফর রহমান রিটনের একটি ছড়া উল্লেখযোগ্য-

১৫ আগস্ট:১৯৭৫

বইলো খুনের ঢেউ

শেখ মুজিবের পরিবারে

রইলো নাতো কেউ।

 

ঘাতক এসে বুক নিশানায়

চালিয়ে দিলো গুলি;

সেই সে ভয়াল রাতের কথা

কেমন করে ভুলি।

 

সিঁড়ির উপর লুটিয়ে পড়া

মহান নেতার লাশ;

ও বাঙ্গালী দৃশ্য এমন

দেখতে তোরা চাস;

৩২’র ঐ বাড়িটায়

একটু তবে যাস।

 

ঐ বাড়িতে দেয়াল জুড়ে

রক্ত গোলাপ আঁকা;

ও বাঙ্গালী, সেই দেয়ালে

একটুখানি তাকা;

দেখবি নিজের রক্ত আছে

সেই দেয়ালে মাখা।

(কৃতজ্ঞতা- ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের প্রতি)

 

মূলত বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয়নি। তাঁকে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র একদল বিপথগামী সৈনিককে সাথে নিয়ে রাতের অন্ধকারে সপরিবারে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকান্ডের একটা চিত্র ছড়াকার লুৎফর রহমান তুলে এনেছেন তার ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট’ ছড়াটিতে।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর দাফন সম্পর্কে যে কথা প্রকাশ পেয়েছে তা অনেক নিষ্ঠুর, নির্মম ও হৃদয়বিদারক। বঙ্গবন্ধুর লাশ একটি হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ায়। লাশের সঙ্গে যাওয়া সৈনিকেরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে যেনতেন ভাবে পূর্বে খোঁড়া কবরে মাটি চাপা দিয়ে রেখে যেতে। সে অবস্থায় বঙ্গবন্ধুকে কবরস্থ করার জন্য যে মৌলভীকে ডাকা হয়েছিল তার নাম শেখ মো: আবদুল হালিম। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বাল্যকালের সুহৃদ। বঙ্গবন্ধুকে কবরস্থ করতে গেলে মৌলভী আবদুল হালিম সৈনিকদের বললেন, এটা যে শেখ মুজিবের লাশ তা আমাকে নিজের চোখে দেখে নিশ্চিত হতে হবে। সৈনিকরা বললো, আমাদের কথা আপনার বিশ্বাস হয় না? মৌলভী বললেন, এটা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয়; এটা ধর্মীয় বিধান। তারপর সৈনিকরা কফিন খুলে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখাল। মৌলভী অনেক কষ্টে অশ্রু সম্বরণ করলেন। সৈনিকরা বলল মুজিবকে জানাজা ছাড়াই দাফন করতে। মৌলভী বললেন, তাহলে আমাকে লিখে দিতে হবে মুজিব শহীদ হয়েছেন। অতপর জানাজায় সৈনিকরা রাজী হল। মৌলভী বললেন তাকে গোসল দিতে হবে। তারপর একটা ৫৭০ কাপড় ধোয়ার সাবান দিয়ে বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহকে গোসল করানো হল। গোসল শেষে রেশন দোকানের একটা মোটা থান কাপড় তাকে পরানো হল। গোসল করাতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর গায়ের পাঞ্জাবি দা দিয়ে কাটা হয়েছিল, কেননা তার শরীর ফুলে গিয়েছিল। তার পকেটে কালো ফ্রেমের চশমা ও তার ব্যবহৃত কালো পাইপ পাওয়া গেল। তাঁর শরীরে তখনো গুলি আটকে ছিল।

অতপর জানাজা শেষে তাঁকে কবরস্থ করা হল। উপস্থিত জনতার মনে হল- ‘বাংলার মাটি তার আদরের সন্তানকে সানন্দে গ্রহণ করলো’। বঙ্গবন্ধুর চাচি বঙ্গবন্ধুকে কবর দেয়ার আগে চিৎকার করতে করতে ছুটে এসেছিলেন তাকে শেষ বারের মতো দেখতে। চিৎকার করে তিনি বললেন, ‘ওরে, আমি ওকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি।’ তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। মৌলভী আবদুল হালিম বঙ্গবন্ধুকে কবরস্থ করে বাড়ি ফিরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরবি ভাষায় একটি কবিতা লিখেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাংলায় অনূদিত হয়।

মৌলভী আবদুল হালিমের রচিত সেই কবিতা উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত আমার লেখা শেষ করলাম-

‘হে মহান,

যার অস্থি-মজ্জা, চর্বি ও মাংস এই কবরে প্রোথিত,

যার আলোতে সারা হিন্দুস্তান,

বিশেষ করে বাংলাদেশ আলোকিত হয়েছিল,

আমি আমার নিজেকে তোমার কবরের উদ্যেশে উৎসর্গ করছি,

যে তুমি কবরে শায়িত

আমি তোমার মধ্যে তিনটি গুণের সমাবেশ দেখেছি,

ক্ষমা, দয়া ও দানশীলতা-

নিশ্চয়ই তুমি জগতে

বিশ্বের উৎপীড়িত এবং নিপীড়িতদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে

জন্মগ্রহণ করেছিলে,

সেহেতু অত্যাচারীরা তোমাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে,

আমরা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের কাছে

তাদের বিচারের প্রার্থনা জানাই,

যারা তোমাকে বিনা-বিচারে হত্যা করেছে,

আমরা মহান আল্লাহর নিকট

তোমার আখিরাতের মঙ্গল কামনা করি।

বিদায়! বিদায়! বিদায়!

হে মহান জাতির জনক।’

 

আমার লেখাটি বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ও এলোমেলো। তবুও এ লেখাটি থেকে যদি কোমলমতি শিশুরা জাতির জনক সম্পর্কে কিছু জানতে পারে তাহলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সামান্য কিছু দায়িত্ব পালন করেছি বলে মনে শান্তি পাবো।

জয় বাংলা

 জয় বঙ্গবন্ধু

বি:দ্র: এই প্রবন্ধ থেকে ৭১ টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ৭১ টি মাল্টিপল চয়েজ প্রশ্ন তৈরি করেছি। প্রতি পাতায় ০৫ টি করে প্রশ্ন দিয়ে ১৪ দিনের পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন লেখক। মূলধারায় নিয়মিত সেগুলো প্রকাশিত হবে।

 

লেখক:

সামছুন্নাহার বেগম

প্রধান শিক্ষক, চর উভূতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সদর উপজেলা, লক্ষ্ণীপুর।

মোবাইল: +৮৮০১৬৭৩৩৮৮৭৫৭। ই-মেইল: headmastersn68@gmail.com

 

মূলধারায় সম্পৃক্ত হোন

সংশ্লিষ্ট আরো খবর...

মূলধারা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Theme Developed BY ThemesBazar.Com
themesbazarmuldhara84

লাল-সবুজের বাংলায় ‘মূলধারা’য় স্বাগতম

লাল-সবুজের বাংলায় ‘মূলধারা’য় আপনাকে স্বাগতম। মূলধারা- সবার কথা বলে। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। E-Mail: muldhara71@gmail.com

মূলধারা-সবার কথা বলে

লাল-সবুজের বাংলায় ‘মূলধারা’য় আপনাকে স্বাগতম। মূলধারা- সবার কথা বলে। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। E-Mail: muldhara71@gmail.com